সচিবদের প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি, সরকারি দপ্তরেই মানা হচ্ছে না জাতীয় পতাকা বিধিমালা !

admin

October 26, 2026

সচিবদের প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি, সরকারি দপ্তরেই মানা হচ্ছে না জাতীয় পতাকা বিধিমালা !

আশরাফুল হক:
সরকারি অফিসগুলোতেই মানা হচ্ছে না জাতীয় পতাকা সংক্রান্ত আদেশ ও বিধিমালা। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের যোগ্য নন–এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজ চেয়ারের পিছনে বা টেবিলের উপরে পতাকা প্রদর্শন করছেন। এসব ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না জাতীয় পতাকার সঠিক আকার, অনুপাত ও রং। এ অবস্থায় জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সচিবদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের নির্দেশনা দিয়ে সম্প্রতি (১১ অক্টোবর ২০২৬) সব সচিবদের চিঠি দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে যে— সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু সংখ্যক কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী বা যোগ্য নন, কিন্তু অফিস কক্ষে চেয়ার বা সোফার পেছনে খুঁটিতে খাড়াভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুযায়ী মোটরগাড়ি, জলযান ও বিমান ব্যতীত কেবল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। কিন্তু কিছু অফিসে সার্বক্ষণিকভাবে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এ ছাড়াও সঠিক আকার, অনুপাত ও রং বজায় না রেখে জাতীয় পতাকাকে অফিস কক্ষের অভ্যন্তরে সজ্জা, অলংকরণ বা ব্যক্তিগত অথবা দাপ্তরিক পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। যা বাংলাদেশ জাতীয় সংগীত, পতাকা এবং প্রতীক আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ এর প্রত্যক্ষ লঙ্ঘন। এই অবস্থায় জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ অধীনস্থ দপ্তর ও সাংবিধানিক বা স্বশাসিত সংস্থাকে নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হল।

এর আগে গত ২৫ আগষ্ট সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন বা উত্তোলন কিংবা ব্যবহার আইনি বিধি-বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। বিচার বিভাগীয় একজন কর্মকর্তা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন প্রতিনিধির সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে ৬০ দিনের মধ্যে ওই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে ওইদিন জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী।

সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তাদের চেয়ার ও সোফার পেছনে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন বা উত্তোলন কিংবা ব্যবহার ১৯৭২ সালের জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক আদেশ এবং পতাকা বিধিমালার পরিপন্থী দাবি করে ঢাকার আদালতের আইনজীবী মো. শরীফ সরকার গত ২০ আগষ্ট রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সানজীদ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান।

রিট আবেদনকারীপক্ষ জানায়, সরকারি দপ্তর ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মকর্তা যাঁরা পতাকা ব্যবহার বা প্রদর্শনের আইনগত অধিকার রাখেন না, তাঁদের চেয়ার ও সোফার পাশে কিংবা পেছনে পতাকা ব্যবহার কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। ১৯৭২ সালের পতাকা বিধিমালায় জাতীয় পতাকার মর্যাদা, ভাবমূর্তি ও সম্মান রক্ষার কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবী সানজীদ সিদ্দিকী। তিনি বলেছিলেন, ‘১৯৭২ সালের বিধিমালায় সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন, ১৫ শ্রেণির ব্যক্তির বাসস্থান এবং আট শ্রেণির ব্যক্তির গাড়িতে পতাকা ব্যবহার করা যাবে। এর বাইরে কেউ ব্যবহার করতে পারেন না। ১৫ পদমর্যাদার ব্যক্তির বাসস্থানের মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও মন্ত্রী-উপমন্ত্রীদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধিমালায় অফিসকক্ষের ভেতরে পতাকা প্রদর্শন বা ব্যবহারের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।’##

Share this post:

Link copied!